নির্যাতন

অতি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে কাশ্মীরে সাধারন মানুষের উপর ভারতীয় সৈন্যদের ভয়াবহ নিপীড়নের এই প্রতিবেদন। মূল গ্রন্থের নাম ‘Torture”, আর এই প্রতিবেদন , যা অতিমাত্রা্য় তথ্যনির্ভর, তাতে উঠে এসেছে কাশ্মীরের সাধারন মানুষের জীবনের এক ভয়াবহ চিত্র। এই প্রতিবেদনটি শ্রীনগর কেন্দ্রিক তথ্যানুসন্ধান ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির জোট জম্মু কাশ্মীর কোয়ালিশন অফ সিভিল সোসাইটি (JKCCS) এবং রাষ্ট্রকর্তৃক ইচ্ছাবিরুদ্ধ নিরুদ্দেশ বন্ধ করা সংক্রান্ত কাজ করা অ্যাসোসিয়েশন অফ প্যারেন্টস অফ ডিসআপিয়ার্ড পার্সন্স (APDP)-র পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (ICC) এবং জেনেভা চুক্তি অনুযায়ী অত্যাচার হল যুদ্ধাপরাধ। রাষ্ট্রসংঘের প্রাক্তন বিশেষ দূত খুয়ান মেন্দেস এটিকে অনুমোদন করেছেন। ‘Torture” র মতে এক বিপুল পরিমান ভারতীয় সৈন্যবাহিনীর (৬.৫-৭.৫লাখ) দ্বারা কাশ্মীরের জনজীবন সম্পূর্ণ ভাবে নিয়ন্ত্রীত। ২০১৬ সনে জঙ্গীনেতা বুরান ওয়ানি(Buran Wani) নিহত হবার পর থেকেই চরমে ওঠে এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। বিগত ২ বছরে কাশ্মীরে ঘটেছে বহুপ্রকারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা। বিচারবিহীন হত্যা, বেআইনীভাবে আটক, নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন, নিখোজ হয়ে যাওয়া, এসবই এর মধ্যে অন্তরভুক্ত। ‘Torture’ –এই প্রতিবেদনে বাছাই করা ৪৩২ টি নির্যাতনের ঘটনাকে বিবেচনা করে কাশ্মীরে ভারতীয় সৈন্যদের দ্বারা সাধারন মানুষের পীড়নের বিভিন্ন দিককে তুলে ধরা হয়েছে। এই  নিপীড়নের ভয়াবহ চিত্র আরো একবার প্রমান করে কাশ্মীরিদের ভারতীয় জনগোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্নতা ।  কাশ্মীর যদি ভারতের অবিচ্ছেদ্দ অংশ হয়, তবে বন্ধ হোক সাধারন মানুষের উপর এই নিপীড়ন।

জাতিপুঞ্জের ২০০৪ সনের প্রটোকল(ইস্তামবুল) অনুযায়ী নানারকমের নির্যাতনের এক তালিকা পাওয়া যায়, এর বেশীর ভাগটাই কাশ্মীরে ভারতীয় সৈন্যদের দ্বারা সাধারন মানুষের উপর প্রয়োগ করা হয়েছে। নিচের তালিকাটি দেখা যাক—–

                                   মোট নিপীড়ন –৪৩২

  • জোরালো আলোর দিকে তাকাতে বাধ্য করা-৩
  • ভয় দেখানো                                            -১০
  • ঠান্ডার মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখা———–    ১১
  • এককভাবে কয়েদ করে রাখা————–১১
  • ধারালো অস্ত্রের দ্বারা ক্ষত সৃষ্টি……………………..১২
  • কুকুর বা অন্য পশুর গায়ে ছেড়ে দেওয়া……..১৫
  • ক্ষতস্থানে লঙ্কা বা নুন ছেটানো …………………….১৫
  • অন্ধকার ঘরে আটক ……………………………………১৭
  • ঘুমাতে না দেওয়া…………………………………………..২১
  • ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া/ লুটতরাজ………………২৩
  • পায়ুদ্বারে কোন জিনিস ঢুকিয়ে দেওয়া………..২৩
  • জলে ডুবিয়ে রাখা…………………………………….    ২৪
  • খেতে না দেওয়া……………………………………………..২৯
  • গালাগালি করা……………………………………………….৩১
  • অখাদ্য বস্তু খেতে বা্ধ্য করা…………………….   ৩৩
  • নক উপড়ে ফেলা, চুল উপড়ে ফেলা……….৩৫
  • পা দিয়ে পাড়ানো………………………………………….৩৭
  • লঙ্কার পানীয় পান করতে বাধ্য……………………৩৭
  • বন্দীদশায় বাধ্যতামূলক শ্রম…………………………৪৩
  • চোখ বেঁধে দেওয়া………………………………………………৪৮
  • দেহাংশ পুড়িয়ে দেওয়া……………………………………..৭০
  • চড়/ লাথি/ ঘুসি…………………………………………………..৯৩
  • লঙ্কা মেশানো জলে মাথা ডুবিয়ে দেওয়া……………..১০১
  • হাত, পা বেঁধে ফেলে রাখা…………………………………….১০৫
  • মাথা নীচে করে ঝুলিয়ে রাখা …………………………….১২১
  • যৌনাঙ্গে ইলেকট্রিক শক দেওয়া…………………………..১২৭
  • রোলার চালানো………………………………………………..১৬৯
  • উলঙ্গ করে রাখা………………………………………………..১৯০
  • ইলেকট্রিক শক দেওয়া…………………………………………..২৩১
  • প্রহার………………………………………………………………………৩২৬

“Torture” এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট ৪৩২ জন নির্যাতিতর মধ্যে ২২২ জনের মধ্যে জটিল শারীরিক সমস্যা দেখা গেছে নির্যাতনোত্তর পর্বে। এই ২২২ জন নির্যাতিতের মধ্যে ২০৯জন নানা শারীরিক সমস্যার শিকার হয়েছে। এবং এদের মধ্যে, ৪৯ জন হৃদযন্ত্রের সমস্যা, দৃষ্টিশক্তির ক্ষয় এমন নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছে। নির্যাতনের পর বেঁচে ফিরে আসা মানুষের মধ্যে অনেকেই জটিল মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়েছে। ২০১৫সনের Medicins Sans Frontiers এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী কাশ্মীরের জনসংখ্যার ১৯% post-traumatic stress disorder এর শিকার।

বৃদ্ধ-জোয়ান, নারী-পুরুষ নির্বিশিষে, বহু কাশ্মীরি ভারতীয় সৈন্যদের নিপীড়নের শিকার হয়েছে। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট ৪৩২ জন নির্যাতিতর মধ্যে ৩০১ জন সাধারন নাগরিক, ১১৯ জন ছিল জঙ্গী, ৫জন প্রাক্তন জঙ্গী এবং ২জন কাশ্মীরের পুলিশ বিভাগের কর্মী।৪৩২ জনের মধ্যে ২৭ জন ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক। ১৯৯০ থেকে চালু হওয়া এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে বহু সাংবাদিক, ডাক্তার এবং চিকিৎসা বিভাগের কর্মী।

প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্পূর্ণ বিশ্বাসহীনতার কারনে কাশ্মিরের সাধারন মানুষ যতটুকু বিচার পাওয়া যায়, এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে কোনো সুবিচার এর ব্যবস্থা করতে পারে না। যে ৪৩২ নির্যাতনের ঘটনা বলা হল, এদের মধ্যে মাত্র ২০ জন রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের কাছে অভিযোগ জমা করতে সক্ষম হয়েছিল।

কাশ্মীরে  রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের এক দীর্ঘ ইতিহাস আছে আর তার সূত্রপাত উপত্যকায় সমস্ত রাজনৈতিক সংগ্রামকে ভারতসরকারের স্তব্ধ করে দেবার প্রয়াসের মধ্যে। মনে রাখা দরকার এই সন্ত্রাসের সূচনা ১৯৮০ দশকে জঙ্গী আন্দোলনের শুরুর আগে।বহু সমালোচক এই মত ব্যক্ত করেছেন যে ১৯৮৭ সনের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি কাশ্মীরের বহু জননেতাকে ঠেলে দিয়েছিল গনতান্ত্রিক পথকে পরিত্যাগ করে অস্ত্র হাতে তুলে নিতে। তাই কাশ্মীরের জঙ্গী আন্দোলনের পেছনে আছে সমস্ত গনতান্ত্রিক আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেবার এক দীর্ঘ ইতিহাস।

১৯৯০ সনে Armed Forces(Jammu &Kashmir)Special Powers Ordinanceকে আইনসিদ্ধ করা হয়।  সরকার  Armed Forces(Jammu &Kashmir) Special Powers Act, 1990(AFSPA) প্রণয়ন করে। এই দমনমূলক আইন ভারতীয় সৈন্যদের হাতে তুলে দিয়েছে যেকোনো সময়ে নাগরিকদের আটক করার ক্ষমতা, এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অজুহাতে প্রাণসংশয় ঘটানোর ক্ষমতা।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের মতে যেখানে ১৯৯০ সনে ৩৬০০০ সেন্যদের মোতায়েন করা হত ৩০০ জঙ্গীদের মোকাবেলা করার জন্য, ১৯৯১ সনে সেই সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় ২লাখ আর অন্যদিকে নানা জঙ্গীসংগঠন বেড়ে ওঠে আর তাদের সংখ্যা হয়ে দাড়ায় কয়েক হাজারের বেশী।

১৯৯০ র দশকের মাঝামাঝি The Cordon &Search Operation(CASO) আরো এক ভয়াবহ আইন প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের নামে সৈন্যরা ব্যাপক পরিমাণ নির্যাতন চালিয়েছে যার মধ্যে আছে যৌননিগ্রহ, বেআইনী আটক অবস্থায় নিখোজ হয়ে যাওয়া, বন্দীমৃত্যু ইত্যাদি।১৯৯৪ সনে সরকার SOGনামক একটি পুলিসের দপ্তর গঠন করে যার কাজ হয়ে দাড়ায় ধারাবাহিকভাবে নির্মম নিপীযন চালানো।

Human Rights Watch (1993) এবং Amnesty International (1995) র মতে কাশ্মীরে ঘটে যাওয়া বহু বিচারাধীন মৃত্যু ও বিচারবহির্ভূত মৃত্যুর সাথে সরাসরি সম্পর্ক আছে সে রাজ্যের বেআইনী আটক ব্যবস্থা এবং   বন্দীদশায় ভয়ঙ্কর নির্যাতন পদ্ধতি। তাদের মতে বহুক্ষেত্রে এই মৃত্যু ও অঙ্গহানীর জন্য সরাসরি ভাবে দায়ী শারীরিক নিগ্রহ, বন্দীশিবিরের অসাস্থকর পরিবেশ, ভীড়ে ঠাসা কয়েদঘর ইত্যাদিই কারণ।

কাশ্মীর জুড়ে এই নির্যাতনপ্রক্রিয়া চালানোর জন্য সারা রাজ্য জুড়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে Joint Interrogation Centres. এছাড়াও সাময়িক ভাবে স্কুলবাড়ি, প্রাথমিক স্বাস্থকেন্দ্র এমন সরকারী বাড়িকে ব্যবহার করা হয় নির্যাতনকেন্দ্ররূপে।

১৯৯৬ সনের জম্মু ও কাশ্মীরের বিধানসভা নির্বাচন , যে নির্বাচনের পর National Conference জয়লাভ করে, সেই নির্বাচনের সময় কাশ্মীরের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছিল সৈন্যবাহিনীর ব্যাপক সন্ত্রাস অভিযান।২০০২ সনে কাশ্মীরে People’s Democratic Party ক্ষমতায় আসে প্রতিশ্রুতির বন্যা দিয়ে যে তারা ক্ষমতায় এলে বন্ধ হবে এই সামরিক নির্যাতন, সমগ্র রাজ্য জুড়ে সামরিক বাহিনীর উপস্থিতিকে কমিয়ে ফেলা হবে এবং ব্যাংকার গুলো সরিয়ে ফেলা হবে।কিন্তু SOG দ্বারা সন্ত্রাস রোধ না করে,  SOG সমগ্র জম্মু কাস্মীরের পুলিশ বিভাগের সাথে মিলিত হয়। এবং এর ফলে সমগ্র পুলিশ বিভাগই নিপীড়ন চালাতে থাকে।২০০২ সনে মনে হয়েছিল যে স্থিতাবস্থা ফিরে এসেছে কিন্তু তা ভ্রান্ত প্রমানিত হয় ২০০৮ সনের গণঅসন্তোষে। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাথরনিক্ষেপকারীদেরও অপরাধী হিসেবে তাকিভুক্ত করা হয়া এবং চলতে থাকে অমানবিক নির্যাতন, আটক এমন বহু অত্যাচার।

নির্যাতনের বিরুদ্ধে ১৯৯৭ সনে সম্মিলিত জাতিপুজ্ঞের যে সম্মেলন হয়েছিল ভারতও তাতে অংশ নিয়েছিল এবং চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল সন্ত্রাস দমনের জন্য ভুমিকা নেবার ব্যাপারে। কিন্তু সম্মিলিত জাতিপুজ্ঞের এই নির্দেশ তারা পালন করে নি। ২০১০ সনে ভারতীয় পার্লামেন্টে Prevention of Torture Bill টি গৃহিত হয়। কিন্তু ২০১৪ সনে তা তুলে নেওয়া হয়।২০১৭ সনের Law Convention ও সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সন্ত্রাস রোধের পরামর্শগুলি রুপায়ন করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু আজও ভারতসরকার তার দায়িত্বপালন এড়িয়ে যাচ্ছে।এবংনির্যাতন রোধের কোন আইন না থাকার দরুন ভারতীয় সৈন্যারা নিদৃধায় জম্মু কাশ্মীরে এক ভয়াবহ অত্যাচার চালিয়ে যেতে পারছে।

‘Torture’ নামক প্রতিবেদন থেকে শুধু জম্মু কাশ্মীরের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের ইতিহাসটুকু বিবৃত করা হল। ভারতবাসী  হিসেবে এই নিপীড়নের কাহিনী আমাদের লজ্জা দেয় ।

অবিলম্বে তাই বন্ধ হোক জম্মু কাশ্মীরের মানুষের উপর এই জঘন্য সন্ত্রাস। জম্মু কাশ্মীরের মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সেই ভূখন্ডের সমস্যার একটি সুষ্ট রাজনৈতিক সমাধানে উদ্যোগী হোক ভারত সরকার।

‘Torture’—এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ৪৩২ জন নির্যাতিতর বয়ান। এখানে কয়েকটি বাংলায় অনুবাদ করে প্রকাশ করা হল।

                                       নির্যাতিতর বয়ান

মোট ৪৬২ টি বয়ানের মধ্যে কিছু অর্ন্তভুক্ত করা হল।

                  ১                  

নাম: আরিফ আহমেদ ওয়ার

পুরুষ/কসাই

পিতা: মহম্মদ মোকবুল ওয়ার

জঙ্গী যোগসূত্র

26 Punjab Regiment দ্বারা ধৃত

১৯৯১ সনে  আরিফ আহমেদ ওয়ার পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে যান এবং অস্ত্রপ্রশিক্ষণ লাভ করে ফিরে আসেন ১৯৯৩ তে এবং জামায়েত-উল-মুজাহিদিন নামক জঙ্গী দলে যোগ দেন। প্রায় দেড় বছর সক্রিয় কর্মী থাকার পর ২৬ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের হাতে বন্দী হন। এর পর নানা বন্দী শিবিরে তাকে রাখা হয়। তার মতে এই সময় তাঁর উপর চলে চরম নির্যাতন।

আরিফ এবং তাঁর এক সঙ্গী দানগেরপোরা থেকে ওয়ারপোরা গ্রামে যাচ্ছিল,পথে সেনাদের আক্রমনের মুখে পড়ে তাঁরা। পালানোর চেষ্টা করলেও, সৈন্যরা তাদেরকে চারধার থেকে ঘিরে ফেলে। আরিফের সঙ্গীকে আদেশ করা হয় তাঁর পরনের ফেরানটা ফেলে দিয়ে এগিয়ে আসার জন্য। সেই মত এগিয়ে এলে তার সঙ্গীকে গুলি করে হত্যা করে সৈন্যরা। আরিফকে না মেরে নিকটবর্তী একটা নদীর চরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা চলে। শীতকালে ঠান্ডা নদীর স্রোতে, বিবস্ত্র করে অত্যাচার চালানো, বাঁশের লাঠি আর বন্দুকে বাট দিয়ে মার, দানগেরপোরা গ্রামে নিয়ে গিয়ে জঙ্গীদের সহযোগীদের সনাক্ত করানো এমন সব। আটক হওয়ার দ্বিতীয় দিনই আরিফ সমস্ত লুকোনো অস্ত্র বের করে দিয়েছিল। তবু জঙ্গীদের বিষয়ে আরো তথ্য আদায়ের জন্য চলতে থাকে নির্যাতন।এরপর তাঁকে ওয়াতলব ক্যাম্পে নিয়ে আনা হয় এবং সেখানে ৬দিন, দিনে ৪বার করে চলে নির্যাতন। লঙ্কার পানীয়র মধ্যে মাথা ডুবিয়ে দেওয়া, আঙুল আর যৌনাঙ্গে ইলেকট্রিক শক, পায়ের ওপর রোলার চালানো এমন নানাবিধ পাশবিক অত্যাচার । ৬ দিনের পর তাঁকে শপর নামক শহরে আনা হয় আবার জঙ্গীদের সনাক্ত করানোর জন্য।আরিফ সেখানে কাউকেই সনাক্ত করতে পারে না যারা সশস্ত্র সংগ্রামে যুক্ত। সেখান থেকে তাঁকে ITI শপর ক্যাম্পে আনা হয়, সেখানে ৩দিন রাখা আর দিনে ২বার করে চলে নির্যাতন। রাতে ইঁদুর ভর্তি sleeping bag র মধ্যে শুতে বাধ্য করা হয়। ইঁদুরের কামড়ে তার দেহ ক্ষতবিক্ষত হয় কিন্তু কোনো ডাক্তার তাকে দেখে না এবং বাড়ির লোককেও দেখা করতে দেওয়া হয় না। এরপর ৬মাসের জন্য JIC বারমুলা ক্যাম্প, সেখানে নির্যাতন বন্ধ থাকলেও চলে জঙ্গী সনাক্তকরনের জন্য নানা যায়গায় নিয়ে যাওয়া। JIC বারমুলা ক্যাম্পে ডাক্তাররা বেশ কয়েকবার দেখে, ব্যাথা কমানোর ওষুধ আর ক্ষতস্থানের জন্য মলম দেয়। JIC বারমুলা থেকে তাকে স্থানান্তরিত করা হয় কোট ভালোয়াল জেলে। এই জেলে মাসুদ আজাহারকে স্থানান্তরিত করা হয়। মাসুদ, আরিফ এবং বাকি বন্দীদের নিয়ে জেলের মধ্যে আন্দোলনে সক্ষম হয়। যেদিন মাসুদকে সরানো হয় জেল থেকে, সেদিন আরিফ আর অন্যান্য বন্দীরা জেল প্রাঙ্গনে ভারতবিরোধী স্লোগান ও আজাদির স্লোগান দিতে থাকে। পুলিশ জেলের মধ্যে প্রথমে লাঠি চালায় তারপর গুলি ছোড়ে। নোবিদ আকিম নামে এক বন্দী ও আরিফের সহযোগী নিহত হয়।

কোট ভালোয়াল জেল থেকে কাথুয়া জেল ৬ মাসের জন্য, এরপর তাকে পাঠানো হয় JIC বারমুলা ক্যাম্পে। সেখান থানে সে জামিন পায়। ২০০৮ সন পর্যন্ত আরিফকে প্রতিদিন ক্যাম্পে এসে দেখা করতে হত। ২০০৯ সনে তার কেসটি বারমুলা জেলা কোর্টে ওঠে। ছাড়া পাবার পর আরিফ আর জঙ্গী আন্দোলনের সাথে কোন যোগাযোগ রাখে নি। ছাড়া পাবার পর আরিফ উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি হয়ে ১২ ক্ল্যাস ওবধি পড়াশোনা করেছে।

               ২

নাম: আবদুল আহাদ ভাট

নিবাস:।তারজো, সপোর/বারমুলা

জঙ্গী

গ্রেপ্তার: অফিসার তেগী, BSF

আবদুল আহাদ ভাট প্রথমে হিজবুল, পরে হিজবুল মুজাহিদিন এর সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯০ সনে পাকিস্তানে গিয়ে ১৯৯১ তে ফেরত আসে।১৮ই অক্টোবর ১৯৯১, ফিরে আসার কয়েক মাস বাদে সে গ্রেপ্তার হয়। ভাটকে ২মাস সোপোর মিলিটারি ক্যাম্পে আটক রাখা হয়। এরপর তাঁকে বারমুলা সাব জেলে বন্দী করে রাখা হয়।১৯৯৩ সনে সে ছাড়া পায়। কয়েক মাস বাদে তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা হয় এবং JIC বারমুলায় চালান করা হয়। ভাট এবং তাঁর সঙ্গীরা তাদের অস্ত্র ফেলে পালানোর চেষ্টা করছিল এই সময়ে তাঁকে ১৫ পাজ্ঞাব রেজিমেন্টের লোকেরা গ্রেপ্তার করে। JIC বারমুলাতে ভাট নানা প্রকার নির্যাতনের শিকার হয়। রড দিয়ে মারা, পায়ে রোলার চালানো, সারা শরীরে ইলেকট্রিক শক প্রেরন ইত্যাদি নির্যাতন চলতে থাকে প্রতিদিন। JIC বারমুলায় পানীয় জল বা পরিচ্ছন্নতার বালাই ছিল না। কোনো রকম পরিসেবা ছাড়া সেখানে ৪০০-৫০০ বন্দীকে রাখা হত। ৪ মাসের মধ্যেই সে সমস্ত অস্ত্র  তুলে দেয়।বন্দী অবস্থায় সে টাইফয়েড রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু এই সময়ে কোনো চিকিৎসার সুযোগ তাকে দেওয়া হয় নি ।১৯৯৩, ১৯৯৪ তে বেশ কয়েক দফা তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার করা হয়। এই নির্যাতনের ফলে তাঁর দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে গেছে। ভাটের বাঁ হাত র হাড় ভাঙা , শরীরের ভিতরের অংশেও নানা আঘাত লেগেছে যা তাঁকে অত্যন্ত দুর্বল করে দিয়েছে।

        ৩

আবদুল গফর শেখ

পুরুষ

পিতা। আবদুল্লা শেখ

নিবাস: আস্তিনগো , বান্দিপুরা

সাধারন নাগরিক

সেনাবাহিনী দ্বারা নির্যাতনের শিকার

রাফি বেগম, আবদুল গফর শেখের স্ত্রীর বয়ান—

১৯৯১ সনে একটা তল্লাসির সময়ে সৈন্যবাহিনীর লোকেরা এসে গ্রামের সমস্ত পুরুষকে নিকটবর্তী মাঠে জড়ো হতে আদেশ করে। তাদের আদেশমত মহিলা ও শিশুদের পুরুষরা ঘরে রেখে আসে। সৈন্যরা মহিলা ও শিশুদের সাথে দূর্ব্যবহার করে। গফর শেখের স্ত্রীর মতে এই সময়ে গফর শেখকে ধরে নিয়ে যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। তার স্ত্রী আরো জানান যে গফরকে জঙ্গীদের আত্মীয় বলে ধরা হয় এবং তাঁর কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্রের খোঁজ চাওয়া হয়।

 বেশ কয়েক ঘন্টা অত্যাচার চলার পর তাঁকে অর্ধমৃত অবস্থায় দুজন অফিসার বাড়িতে ফিরিয়ে দেয়। জঙ্গী তল্লাশি অভিযানের তৃতীয় দিনে গফর শেখকে আবার ধরে নিয়ে যায় সৈন্যবাহিনীর লোকেরা। পরের দিন ওয়াতলব চুঁড়োয় তার মৃতদেহ পাওয়া যায়, শরীরে ছিল ৭টি বুলেটের ক্ষত।

স্থানীয় লোকেদের মতে উলার জঙ্গীঅভিযানের সময় বহু স্থানীয় মানুষ নিহত হয়। এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে, ৭ দিন ধরে চলে এই জঙ্গী তল্লাশি। তাই সঠিক হতাহতের সংখ্যা জানা যায় না।

            ৪

নাম: আবদুল হামিদ ভাট

নিবাস:।শেরী, ঝান্দাফরান/বারমুলা

নাগরিক

গ্রেপ্তার: স্ফেশাল ওপারেশন গ্রপ(SOG) এবং রাষ্ট্রীয় রাইফেলস(আর্মি)

আগস্ট ১, ২০০৩, বিকেল ৫.৩৫ নাগাদ SOGর লোকেরা তাঁকে ঘর থেকে ধরে নিয়ে যায়। হ্যান্ডকাফ বাঁধা এবং চোখ  বাঁধা আবস্থায় তাঁকে প্রথমে গুন্ডমুল গ্রামে এবং পরে JIC বারমুলাতে নিয়ে যাওয়া হয়। JIC বারমুলাতে সন্ধ্যা ৬.৩০ টা নাগাদ হামিদকে আনা হয়, তখন থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে নির্মম নির্যাতন। তাঁর দুপা ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়, কয়েদখানায় চারজন লোক সারা রাত ধরে তাঁকে মারতে থাকে।শেষমেষ স্থানীয় এম.এ. লে. হাসান রাহির মধ্যস্থায় সে যাত্রায় হামিদ ভাট ছাড়া পায়। ছাড়া পাবার পর ২ মাস সে বারমুলা হাসপাতালে ভর্তি থাকে এবং প্রায় ৪০,০০০ টাকা তার খরচ হয় চিকিৎসা বাবদ।

১ বছর বাদ আবার রাষ্ট্রীয় রাইফেলস(আর্মি)র সেনারা তাঁকেঁ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। প্রথমে রাস্তা দেখানোর অজুহাতে নিয়ে গেলেও কিছুটা পথ যাবার পর তাঁর চোখ বেঁধে দেওয়া হয় এবং তাকে নিয়ে আসা হয় ক্যাম্পে। রাত ১১.৩০ থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত চলে নির্মম অত্যাচার। উলটো করে  ঝুলিয়ে রেখে মারধোর করা হয়। শেষে এক মেজরের বদান্যতায় সে ছাড়া পায়। মুক্তি লাভের পরেও তাকে প্রত্যেক সপ্তাহে রবিবার করে বোনিয়ার ক্যাম্পে গিয়ে তাঁকে হাজিরা দিতে হত। এই নির্যাতনের ফলে সে কর্মক্ষমতা হারিয়েছে এবং জীবিকা নির্বাহ করতে অক্ষম ।

            ৫

আলতাফ আহমেদ ওয়াজা

 দোকানের মালিক

নিবাস: সিংপুরা, পাটান, বারমুলা

নাগরিক

সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে যোগ দেবার জন্য তাঁকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় সেনারা এবং তিনি নির্যাতনের শিকার হন। আলতাফের বয়ান অনুযায়ী ২০০৭ সালের জুলাই মাসের একদিন শ্রীণগর-বারমুলা হাইওয়ের উপর অবস্থিত হারত্রাত ব্রিজের নিকট তার দোকানের সামনে বসে ছিলেন। এমন সময় সেনাদের গাড়ি থেকে রাস্তার ধারে দাড়ানো লোকেদের উপর গ্রেনেড ছোড়া হয়, এবং এই ঘটনায় বেশ কিছু মানুষ আহত হয়।স্থানীয় লোকেরা ব্রিজের কাছে জড়ো হয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানা্য়। পরের দিন সকালে তাংমারগ যাবার পথে আলতাফ বাড়ি থেকে ফোন পায় যে তার ভাই আর্মির দ্বারা ধৃত হয়েছে এবং তাকেও রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। বিকেল বেলা ফিরে এলে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। আলতাফ আর তাঁর ভাই দুজনকেই বন্দী করা হয় এবং চলে নির্মম নির্যাতন। সেনারা তাঁকে নগ্ন করে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারে। অত্যাচারের সময় লোহার রোলার তাঁর পায়ের উপর চালানো হয়। যৌনাঙ্গে এবং বুকে ইলেকট্রিক তার দিয়ে শক দেওয়া, লঙ্কার জলে মাথাটা চুবিয়ে দেওয়া, এমন অত্যাচার চলে। সেই রাত্রে তার স্থান হয় সংকীর্ণ এক কয়েদঘরের সিমেন্টের মেঝেতে কোন বিছনাপত্র ছাড়াই।

পরদিন আলতাফ আহমেদ ওয়াজার মুক্তির দাবিতে গ্রামের লোকেরা আন্দোলন শুরু করে, স্বাধীনতা পন্থী নেতা নাহিম খান এবং তাঁর সহযোগীরা এতে নেতৃত্ব দেয়। শেষে আলতাফ আর তার ভাইকে আর্মির লোকেরা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। ছাড়া পাবার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় এবং দুদিন বাদে ছাড়া পায়। কিন্তু ক্ষতস্থানগুলো পুরো সেরে উঠতে প্রায় ২মাস সময় লেগেছিল।

                                                   ৬

আমির (নাম পরিবর্তীত)

পুরুষ/ শ্রমিক

নাগরিক

রাষ্ট্রীয় রাইফেলস দ্বারা ধৃত

২০০২সালের অক্টোবর/ নভেম্বরের এক দুপুরবেলা( নির্যাতিত সঠিক মাসটি মনে করতে পারে নি) আমিরের বাড়িতে সেনারা আসে এবং তাকে অভিযুক্ত করে যে সে জঙ্গীদের সাথে যোগাযোগ রাখে। সেনাদের গাড়িতে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ৪-৫ কিলোমিটার দূরের পাঞ্চালথান  ক্যাম্পে।আধ ঘন্টা বাদে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একটি ঘরে আনা হয়, চলে জঙ্গীদের খবরাখবর জানার জন্য অত্যাচার। আমিরকে নগ্ন করে ঝুলিয়ে লাঠিপেটা করা হয়।পেটভর্তি করে জল খেতে বাধ্য করা, তারপর মারের ফলে রক্ত আর জল বমি হয়ে উঠে আসে, গোড়ালি আর আঙুলে ইলেকট্রিক শক, এমন সব নির্যাতনের শিকার হয় আমির।কোনরকম চিকিৎসা করা হয় নি তাঁকে আঘাত পাওয়া সত্বেও।ছাড়া পাবার পর তাঁকে নিজের খরচায় চিকিৎসা করাতে হয়। একবছর বাদে একদিন বাড়ির পথে ৭নং রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের সৈন্যরা তাঁকে ধরে এবং একজন জঙ্গীর ব্যাপারে জিঙ্গাসা করে । উত্তর না দিতে পারলে এদফাতেও তাকে লাঠি দিয়ে মারা হয়, শেষপর্যন্ত ছেড়ে দেওয়া হয়।

                                                          ৭

ফারিদা বেগম

মহিলা/ গৃহবধূ

পিতার নাম: আবদুল রাসিদ বেগ

নিবাস: হাযাম মহোল্লা, সোপোর, বারমুলা

নাগরিক

২৬ পাঞ্চাব রেজিমেন্ট দ্বারা ধৃত

ফারিদার জামাইবাবু হিজবুল মুজাহিদিন এর জঙ্গী ছিলেন। ১৯৯৩ সনে  ২৬ পাঞ্চাব রেজিমেন্টর দ্বারা গ্রেপ্তারের পর বন্দী অবস্থায় মারা যান। ফারিদাকেও তারা আটক করে অস্ত্র লুকিয়ে রাখার অভিযোগে। দুজনকেই এক ঘরে অটক করে রাখা হয় এবং নির্যাতন চলে। ফারিদার স্বামীর ভাই এই নির্যাতনে মারা যান। ফারিদাকেও স্টিলের রড এবং কাঠের গুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। বন্দুকের বাট দিয়ে মাথায় মারা, লঙ্কার গুড়ো চোখে মুখে দেওয়া, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার গলা, মুখ, ঘাড় ক্ষতবিক্ষত হয়। তাকে বিবস্ত্র করার চেষ্টা সে চিৎকার করে বাধা দিতে সক্ষম হয়।

ফারিদা এই লজ্জা আর অপমানের বোঝায় অনেকাংশে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত। নির্যাতন ফলে সে আজ নানাপ্রকারের শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় জর্জরিত।

                                                                 ৮

ফিরোজ আহমেদ শাহ

পুরুষ/ ওষুধের দোকানি

তুলি, নৌপোরা, কুলগাম

নাগরিক

জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ দ্বারা ধৃত

২০১৬ সালে ফিরোজের তিন মেয়েরা সরকার বিরোধী গণান্দোলনে সামিল হয়েছিল। ফিরোজ গিয়েছিলেন তাদের ঘরে ফিরিয়ে আনতে। এই সময়ে একটা পুলিশের গাড়ি এসে তাকে আটক করে। ফিরোজকে নগ্ন করে রাস্তায় ফেলে মারধোর করা হয়। তাঁকে মাটিতে টানতে টানতে ৫০০ মিটার দূরে অবস্থিত ক্যাম্পে আনা হয়।ক্যাম্পে জল চাইলে তাঁর জোটে বোতল ভর্তি মূত্র। ফিরোজের পেছোনে লাঠি ঢুকিয়ে দেওয়া হয় এবং সে জ্ঞান হারায়। কুলগম পুলিশ স্টেশানে ২দিন পর সে জ্ঞান ফিরে পায়। বন্দী অবস্থায় কোন চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় নি ফিরোজকে। ছাড়া পাবার পর কুলগম জেলা হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা করা হয়। নির্যাতনের ফলে বাঁ হাতে চিঁড় ধরে গেছিল।

গুলাম মহম্মদ ডর

পুরুষ

নিবাস: রাখি হায়গম, সোপোর, বারমুলা

BSF দ্বারা ধৃত ও নির্যাতিত

১৯৯৪ সালের ১৭ইজুন, গুলাম মহম্মদ ডরকে হায়গম, সোপোর থেকে ১৩১  BSF  ব্যাটেলিয়ন গ্রেপ্তার করে। তাঁকে সোপোরে অবস্থিত Industrial Estate Campএ রাখা হয়, পরে তাঁকে JIC Barmullahতে স্থানান্তরিত করা হয়। গুলাম মহম্মদ ডরের বিবৃতি আনুযায়ী তাঁকে আর্মির লোকেরা লোহার রড দিয়ে মারে। এর ফলে তাঁর পায়ের পেশী এবং পিঠ আঘাতপ্রাপ্ত হয়। তাঁর মাথা, পুরুষাঙ্গ, এমন শরীরের নানা জায়গায় ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়। এছাড়াও তাকে লঙ্কার গুড়ো মেশানো জল খেতে বাধ্য করা হয়। তাঁর পায়ুতেও লঙ্কার গুড়ো ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। মহম্মদ ডরকে ৩ দিন ধরে মাথা নিচের দিক করে ঝুলিয়ে রাখা হয়। তার পেছনদিকটা পুড়িয়ে দেওয়া হয়।এই নির্যাতনের ফলে মহম্মদ ডরএর শরীরের নানা জায়গায় আঘাত লাগে। তাঁর হাতের আঙুল, কনুই আর গোড়ালির হাড় ভাঙা।

                                                               ১০

গুলাম নবী ভাট

পুরুষ/ দোকানদার

পিতার নাম। মহম্মদ মকবুল ভাট

নিবাসল দরু, সোপোর/ বারমুলা

জঙ্গী

২১ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস দ্বারা ধৃত

১৯৯২ সালে গুলাম নবী ভাট পাকিস্তানে যায় এবং অস্ত্র শিক্ষালাভ করে। ফেরার পথে তাদের দল ২১ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস এর হাতে ধরা পড়ে। দলের বাকীরা মারা যায়, গুলামকে মাচি নামক জায়গায় ধরা হয়। সেখান থেকে তাঁকে দোদী ক্যাম্প, এবং পরে জঙ্গীল ক্যাম্পে বন্দী করে রাখা হয়। ২টি ক্যাম্পে সে মোট ৬মাস কাটিয়েছিল। এরপর তাকে হিরনগর-সাব- জেল এ বন্দী করা হয়। সেখানে সে ২বছর ছিল। প্রশ্নোত্তর পর্বে তাকে বেল্ট দিয়ে মারা হতো, শরীরের গোপনাঙ্গে ইলেকট্রিক শক, শরীরের উপর দিয়ে রোলার চালানো, নানা প্রকারের নির্যাতনের শিকার হয় সে। লঙ্কার গুড়ো মেশানো জলে তাঁর মাথাটা চুবিয়ে দেওয়া হয়।বন্দী অবস্থায় কিছু চিকিৎসার সুযোগ  মিলেছিল গুলামের, যদিও গুলামে মতে তা যথেষ্ট ছিল না। ৬ মাসের আগে তাঁকে  পরিবারের লোকজনদের সাথে দেখা করতে দেওয়া হয় নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *